Press "Enter" to skip to content

এসআই জহিরের ফেসবুক বার্তায় বদলে গেল রিক্সা চালক ফাজেল মিয়ার দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ ‘একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?” নিশ্চয়ই পারে। নইলে পুলিশের এসআই জহির উদ্দিন কেন অগ্নিদগ্ধ ৪ বছরের শিশু শিমার চিকিৎসায় এগিয়ে আসলেন। নইলে কেন দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট ও অগ্নিদগ্ধ শিশু কন্যাকে নিয়ে হতাশাগ্রস্ত রিক্সা চালক ফাজেল মিয়ার পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। এখনও মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি, ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মনমানসিকতা আছে বলেই পৃথিবী এতো সুন্দর মনে হয়। মানবিকতা টিকিয়ে রেখে যারা এই পৃথিবীর সৌন্দর্য্য রক্ষা করছেন তারাই প্রকৃত মানবপ্রেমী।

রিক্সা চালক ফাজেল মিয়া লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৬ সালের কোনো এক শীতের রাতে কুপি বাতির (চেরাগ) আগুনে পুড়ে যায় তার শিশু কন্যা শিমার শরীরের একাংশ। লবন আনতে পান্তা পুরায় যার, তার পক্ষে কতটুকু করা সম্ভব? তাই দীর্ঘদিন গ্রামেই চলছিল ছোট্ট শিমার চিকিৎসা। এতে তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। ফাজেল মিয়ার অত টাকা-কড়িও নেই যে, মেয়েকে বড় হাসপাতালে নিয়ে যাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য। একদিন ফাজেল মিয়া ও তার শিশু কন্যার দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তাকে দেখতে যান রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির উদ্দিন ও স্থানীয় ছাত্রনেতা জহির রায়হান বাবু। কে কি ভাববে সেটি চিন্তা না করেই, অগ্নিদগ্ধ শিমার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চেয়ে তাকে কোলে নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন এসআই জহির। আর এই পুলিশ কর্মকর্তার এক ফেসবুক পোস্টেই বদলে যায় রিক্সা চালক ফাজেল মিয়ার দিন।

এসআই জহিরের অনুরোধে, মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসেন পুলিশ, সাংবাদিক, প্রবাসী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। ফাজেল মিয়ার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরাও। সকলের অনুদানের টাকায় উন্নত চিকিৎসা নিয়ে অগ্নিদগ্ধ শিমা এখন পুরোপুরি সুস্থ্য। শিমাদের থাকার নড়বড়ে ঘরটি ভেঙ্গে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে একটি সুন্দর ঘর। শিমার সম্পূর্ণ চিকিৎসার পর অতিরিক্ত থাকা অনুদানের টাকা দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার পরামর্শে এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়।

গত শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া, এসআই জহির উদ্দিন, ছাত্রনেতা জহির রায়হান বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রিক্সা চালক ফাজেল মিয়ার শিশু কন্যা শিমা ও তাদের নতুন ঘর দেখতে যান। এসময় তাদের জন্য দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।

রিক্সা চালক ফাজেল মিয়া বলেন, টাকার অভাবে শিমার চিকিৎসা প্রায় বন্ধ হয়েই গিয়েছিলো। এক পর্যায়ে বাবু ও এসআই জহির স্যার আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। আমাদের জন্য সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমার মেয়ের চিকিৎসা করান। আমাদের থাকার জন্য একটি নতুন ঘরও করে দিয়েছেন তারা। আল্লাহর রহমতে এখন আমার মেয়ে ও আমরা ভালো আছি। এছাড়াও তিনি এসআই জহির, ছাত্রনেতা বাবুসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এসআই জহির উদ্দিন বলেন, আমি শুধু অগ্নিদগ্ধ শিশু শিমাকে কোলে নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেছিলাম। এরপর বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শিমার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসেন। আমার ভালো লাগে, মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করতে। যতদিন বাঁচবো, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো বলে জানান এই মানবপ্রেমী পুলিশ কর্মকর্তা।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোতা মিয়া বলেন, একটি দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অবস্থার পরিবর্তন করা সত্যিই মহান কাজ। একজন পুলিশের এমন মানবিক বিবেকবোধ আর ব্যক্তিগত চেষ্টায় এ কাজটি সম্পন্ন হওয়ায়, আমিও গর্বিত। এছাড়াও এসআই জহির উদ্দিনসহ সহযোগীতায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

এরআগেও বহুবার ব্যক্তিগত চেষ্টা ও মানবিক বিবেকবোধ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন নোয়াখালীর কৃতি সন্তান পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির উদ্দিন।

Mission News Theme by Compete Themes.